class="post-template-default single single-post postid-7796 single-format-standard" >

সুর হারিয়ে মৃত্যু পথযাত্রী হালুয়াঘাটের ‘পল্লব’। একটি সংগীতের মৃত্যু

ওমর ফারুক সুমন, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) থেকেঃ
পেশায় একজন গানের শিক্ষক। ২০ বৎসর যাবৎ নিয়োজিত এই পেশায়। এক সময় ওয়াল্ড ভিশন ও কারিতাসেও চাকরি করতেন। একজন ভালো মানের শিল্পী ও গানের শিক্ষক হিসেবে রয়েছে যার অনেক কদর। যার সুরে মুগ্ধ হয়ে আলোকিত হয়েছেন হালুয়াঘাট,ধোবাউরা ও কলমাকান্দা উপজেলার শত শত শিক্ষার্থী। অভিভূত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। নিজের হাতে গড়া পিদিম সংগীত একাডেমি নামে বিদ্যালয়টি সেটিও এখন অচল। যার কথা বলছি সেই ব্যক্তিটির নাম পল্লব স্নাল (৪৭)। বাড়ি ৪নং সদর হালুয়াঘাটের প্রশ্চিম কালিয়ানীকান্দা গ্রামে। সামারিথান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিন পার্শ্বে। গানের শিক্ষক পল্লব আজ জীবনের সকল গানের সুর হারিয়ে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর প্রহর গুনে চলেছেন। বাইপাস সার্জারি করে বুকে ২টি রিং পড়িয়ে কোনমতে নিঃশ্বাসটুকু নিতে পারছেন। শুধু তাই নয়, হৃদ রোগসহ নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে পল্লবের চেহেরা এখন প্রায় কংকালসার হয়ে উঠেছে। চিকিৎসা কাজে জায়গা জমি সব বিক্রি করে হয়েছেন এখন সর্বশ্বান্ত। গানের শেষ সম্বল হারমোনিয়ামটিও বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানা যায়। শুক্রবার সরজমিনে পল্লবের সাথে কথা বলে জানা যায়, ছয়মাস যাবৎ রোগ শোকে জর্জরিত সে। ডাক্তার বলেছে হার্ট ব্লক হয়েছে। তাই ঢাকার আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে দুটি রিং পড়িয়ে নিয়েছেন। এরপরও লিভারে সমস্যা রয়েছে পল্লবের। গলায় আর গানের সুর নেই। শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। যা টাকা পয়সা ছিলো সব শেষ। এখন আর ঠিকমতো চিকিৎসাও করাতে পারছেনা পল্লব। এর পরেও পল্লব বাঁচতে চায়। নিজের জন্যে না হলেও তার সন্তানদের জন্যে হলেও বাঁচার স্বপ্ন রয়েছে। কথা বলার এক ফাঁকে পল্লবের ছোট্ট পুত্র ক্লাস ওয়ানে পড়ুয়া কাব্য রিছিল বাবার গলায় জরিয়ে ধরেন। কাব্য বুঝতে পারছেনা হয়তো তার বাবার এই করুন পরিনতি। মৃদু হেঁসে পুত্র কাব্যকে সান্তনা দেন পল্লব। তিনি বলেন, গানের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনই ফোন দেয়। খোঁজ খবর নেয়। কিন্তু আমি কি আর কখনো গান করতে পারবো? পল্লব তার সু’চিকিৎসার জন্যে স্থানীয় এমপি মহোদয়সহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। আবেগতাড়িত হয়ে পল্লব বলেন,ভিক্ষা তো করতে পারবোনা কখনো!পল্লবের স্ত্রী উৎকৃষ্টা রিছিল বলেন, আমার একটা সুন্দর জীবন ছিলো! সুন্দর একটা স্বপ্ন ছিলো! যা আজ আর নেই। আমি এই জীবন আশা করিনি কখনো!পল্লবকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ওর দিকে চেয়ে থাকতেই কষ্ট লাগে আমার। আমার যা কিছু ছিলো সব বিক্রি করে দিয়েছি। প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার টাকার ঔষধ লাগে। আমৃতু চালিয়ে যেতে হবে এই ঔষধ। আমি ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছি। অনেক টাকা ঋন করেছি। উৎকৃষ্টা বলেন, আমি সকলের সহযোগিতা চাই।

Facebook Comments





Related News