class="post-template-default single single-post postid-6102 single-format-standard" >

ময়মনসিংহের গফরগাঁয়ে অর্ধ শতাধিক পরীক্ষার্থী প্রবেশ পত্র পায় নি

প্রবেশপত্রের জন্য অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থীর রাতভর অপেক্ষা পরীক্ষা অনিশ্চিত

নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড হাতে পাওয়ার কথা থাকলেও ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থী পরীক্ষার আগের রাতেও প্রবেশপত্র পায়নি। প্রবেশপত্রের জন্য বুধবার রাতভর তারা থানা ও বিদ্যালয়ে দৌড়ঝাঁপ করেন। এর ফলে পরীক্ষার শেষ সময়ে এসে প্রস্তুতি নিতে পারেনি তারা। আবার অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় রাত কাটিয়েছেন। সন্তানরা শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কিনা সে দুঃচিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন অভিভাবকরাও।

জানা যায়, গফরগাঁওয়ের রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ উথুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৬জনসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ফরম ফিলাপ করান তার বিদ্যালয় থেকে। ফরম ফিলাপ বাবদ প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেয়া হয় দুই হাজার ৫০০ টাকা করে। কিন্তু উথুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৬জন পরীক্ষার্থীসহ কোনো পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আসেনি।

উথুরী গ্রামের মিম, জান্নাত, শামছুন্নাহার, স্বর্ণা, ধামাইল গ্রামের হাজেরা ও ঝুমুর জানায়, উথুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিন সুলতানা পপির মাধ্যমে রৌহা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করি। কিন্তু আমরা কেউ পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাইনি। আমরা পরীক্ষা দিতে পারবো কি না জানি না। কোনো শিক্ষককেও খুঁজে পাচ্ছি না। সবার মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে ইউএনও স্যারের কাছে গেলে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে উথুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিন সুলতানা পপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বন্ধ পাওয়া যায় রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদের মোবাইলও

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, ‘প্রতি বছরই ওই প্রধান শিক্ষক এই অপকর্মটা করে থাকেন। দেখি এইসব শিক্ষার্থীদের জন্য কি করা যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমান বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বিক্ষুদ্ধ পরীক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং থানা ঘেরাও করে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালেও পরীক্ষার আগের দিন রাতে প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ তার বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের হাতে লেখাবিহীন প্রবেশপত্র ধরিয়ে দেন। পরে এসব খালি প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষার্থীরা রাতভর বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকারে ঘুরে প্রিন্ট করে প্রবেশপত্র পূরণ করেন। ২০১৭ সালে পরীক্ষার দুই ঘণ্টা আগে প্রবেশপত্র হাতে পায় একই বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা। গত কয়েক বছর ধরে ওই প্রধান শিক্ষক এমন কাজ করে আসলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

Facebook Comments


« (Previous News)



Related News