class="post-template-default single single-post postid-5270 single-format-standard" >

নান্দাইল রাজাপুর ফাযিল মাদ্রাসায় ” দুর্ণীতি অনিয়ম আর অভিযোগের পাহাড় “

সরজমিনে প্রতিবেন,ওমর ফারুক সুমনঃ সীমাহীন অনিয়ম। নিয়োগ অবৈধ। স্টাপিং প্যাটার্ন এ জটিলতা। জাল কাগজপত্র। ২৭ বৎসর যাবৎ নেই প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি। স্বাক্ষরে অনিয়ম। পরিচালনা কমিটি ছাড়াই চলছে বছরের পর বছর। এমনি শত অভিযোগ আর সীমাহীন অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজাপুর ফাঁজিল মাদ্রাসা। একদিকে মামলা আর অনিয়মের জটিলতা আর অন্যদিকে শিক্ষার্থী সংকট দুই মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন দেওলিয়া। শুধু কিছু চেয়ার বেঞ্চ, ১৩ জন শিক্ষক আর ৩ জন কর্মচারী নিয়ে শত অনিয়মের মাঝেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে রাজাপুর ফাঁজিল মাদ্রাসা। গত বৃহঃপতিবার সরেজমিনে মাদ্রাসাটিতে তদন্ত করতে গেলে বের হয়ে আসে বিচিত্র রকমের তথ্য। অনিয়ম আর সীমাহীন জটিলতা নিয়ে এ পর্যন্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সহ বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে ১৩টি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। যার অধিকাংশ অভিযোগই সত্য বলে প্রমানিত হয়েছে। গত ৫ মে মাউসি’র উপ-পরিচালক মুহম্মদ নাসির উদ্দিনের ১৩টি অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদনে ১২টি অভিযোগই প্রমানিত বলে তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। উক্ত তদন্ত প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটি ১৯৫৩ সালে দাখিল, ১৯৬৫ সালে আলিম, ১৯৬৯ সালে ফাঁজিলের পাঠদানের স্বীকৃতি পায়। অতঃপর দুর্ণীতির অভিযোগে ৮ মার্চ ১৯৯৪ তারিখে আলিম আর ফাঁজিল স্তরের পাঠদানের স্বীকৃতি বাতিল করে। ১৯৮৯ সাল থেকে একাডেমিক স্বীকৃতি নাই। এমনকি দাখিল স্তরের স্বীকৃতিরও নবায়ন নেই। ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ৯ জন শিক্ষককে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এরা হলেন মোঃ হাদিউর রহমান (৩৪৮৭০৩), আতাউল্লাহ ফকির (৩৩৪৪৩৮), মোঃ হামিজ উদ্দিন (৬৪৪০৪৫), মোঃ আমিনুল হক (৬৪৫৭২৮), তাজুল ইসলাম সাইফুল্লাহ (৬৪৫৭২৯), শরিফুল ইসলাম (২০১৫৪২), ফারুক মিয়া (২০১৫৪৬৫), ফরিদা ইয়াসমিন (২০১৫৪২৭), আব্দুল আহাদ (২০১৫৪২৮)। তদন্তে প্রতিবেদন বলা হয় এরা অবৈধভাবে নিয়োগ নিয়ে সরকারী কোষাগার থেকে বেতন ভাতা উত্তোলন করে আসছে। এদের এম পি ও বন্ধ এবং উত্তোলিত সমুদয় টাকা ফেরৎ নেয়ার জন্যে মাউসি কে সুপারিশ করেন। এছাড়াও শরিফুল ইসলাম, ফারুক মিয়া, ফরিদা ইয়াসমিন, আব্দুল আহাদ যথাযথ প্রক্রিয়ায় এম পি ও ভুক্ত না হওয়াই ১৫০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে বেতন ভাতা উত্তোলন করে আসছেন যা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ১০ বৎসরেও সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে সুত্রে জানা যায়।
এর বাহিরেও আরও তিনজন শিক্ষকের এম পি ও এবং আটজন শিক্ষকের উচ্চতর স্কেল ভুঁয়া তথ্য দিয়ে করেছেন যা বিধিসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়। অভিজ্ঞতা ছাড়াই আতাউল্লাহ ফকির উপাধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়েছেন তাও অবৈধ। তার সঠিক কোন কাগজপত্র নেই বলে জানা যায়।
অপরদিকে ২০১০ সালে নান্দাইল সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে অধ্যক্ষ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলার (মামলা নং-১১৪/২০১০) প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ৩০ শে অক্টোবর তারিখে আদালত তাকে ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন। পরে ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তারিখে আদালতে আত্বসমর্পণ করলে ১৮ দিন কারাভোগের পর জামিনে বের হয়ে আসেন। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকাশ সেই কারাভোগের তথ্যও গোপন করে অবৈধভাবে হাজিরা সিটে স্বাক্ষর দিয়ে দায়িত্ব পালন ও বিল ভাতাদি উত্তোলন করেছেন অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম। এছাড়া খুরশিদ আলম নামে একজন সহকারী শিক্ষক এম পি ও ভুক্ত আছেন, বাস্তবে এই নামে প্রতিষ্ঠানে কোন শিক্ষক নেই। শুধু তাই নয় গত মাস থেকে নতুন করে আতাউল্লা ফকির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়েছেন যা সঠিক নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অবৈধভাবে উত্তোলিত টাকা ফেরৎ দেয়ার আদেশ থাকলেও তা মানা হয়নি। সর্বশেষ মাউসির তদন্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন আলিম ও ফাঁজিল স্তরের শিক্ষক ভুয়া, তাদের এম পি ও বাতিল ও টাকা ফেরৎ, ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত নিয়োগ প্রাপ্ত ৯ জনের এম পি ও বাতিল, আতাউল্লা ফকির যোগ্যতা ছাড়াই উপাধ্যক্ষ, শরিফুল ইসলাম, ফারুক মিয়া, ফরিদা ইয়াসমিন, আব্দুল আহাদের এম পি ও বাতিল ও টাকা ফেরৎ, ২০১১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত উপাধ্যক্ষ, সহকারী অধ্যাপক, সহকারী শিক্ষক মিলে আটজন ও একজন কর্মচারীসহ মোট নয় জনের এম পি ও বাতিল ও টাকা ফেরৎ, তাজুল ইসলাম সাইফুল্লাকে উপাধ্যক্ষ পদ থেকে প্রত্যাহার ও তার এম পি ও বাতিল করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি প্রদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করেন। এ বিষয়ে নান্দাইলের মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আইনুল হক বলেন, এ মাদ্রাসায় অনেক বিশৃঙ্খলতা রয়েছে সত্য, তবে আমরা চেষ্টা করছি তা ফিরিয়ে আনার জন্যে। অগ্রনী ব্যাংক কালিগঞ্জ শাখার ব্যাবস্থাপক নুরুল হক বলেন, কোর্টের আদেশের পরিপ্রেরক্ষিতেই রাজাপুর ফাঁজিল মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিল দেওয়া হয়। নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমানের সাথে এই বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে রাজাপুর ফাযিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আতাউল্লা ফকির মুঠোফোনে বলেন, ২০২১ সাল পর্যন্ত স্বীকৃতির আবেদন করেছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া সঠিক প্রক্রিয়ায় দেয়া হয়েছে। মামলার কথা স্বীকার করেন।

Facebook Comments





Related News