class="post-template-default single single-post postid-4966 single-format-standard" >

চট্রগ্রামের সাবেক মেয়র মহিউদ্দীন অাহম্মেদের ইন্তেকাল

মহিউদ্দিন চৌধুরী আর নেই চলে গেলেন পরপারে।(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) চট্টগ্রামের নগরপিতা এবং নগর উন্নয়নের কারিগর ছিলেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তার জন্ম ১৯৪৪ সালে, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামে । ছোটবেলা থেকেই ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ঊনসত্তর সালে পালন করেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব।

 

রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই সান্নিধ্যে আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হন পাকিস্তান নৌবাহিনীর হাতে। সে সময় অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। সে ক্ষত সারাজীবন বয়ে বেড়াচ্ছেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সময় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে তার নিরলস কাজ করার কথা এখনও অনেকেই স্মরণ করেন।

 

বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে থাকা বর্ষীয়ান নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৯৯৪ সালে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ২০০০ সালে একবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং ২০০৫ সালে আবারও মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন মহিউদ্দিন।

 

টানা ১৭ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালনের পর ২০১০ সালের নির্বাচনে মহিউদ্দিন হেরে যান। ২০১৫ সালের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন।

 

মহিউদ্দিন চৌধুরীর জীবনে রয়েছে নানা সংগ্রামী ঘটনা। নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। জীবনের তাগিদে তাকে করতে হয়েছে রেডিও মেকানিকের কাজও।

 

সেই তিনি আবার চট্টগ্রামের লালদীঘিতে যখন হাজির হন তখন তার জ্বালাময়ী বক্তব্য শোনার জন্য হাজার হাজার মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। মহিউদ্দিন চৌধুরী রাজনৈতিক জীবনে অনেকবারই কারাগারে গেছেন। ওয়ান ইলেভেনের সময়ও তাকে যেতে হয়েছিল কারাগারে। সেই সময় তার কন্যা ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পার মৃত্যু তাকে ভীষণ রকম আবেগতাড়িত করে। ফেলে দেয় জীবনের মানবিকতার পরীক্ষায়। সেই পরীক্ষা এখনও মোকাবিলা করছেন তিনি।

 

মেয়র থাকা অবস্থায় যখন যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, চট্টগ্রামের স্বার্থে আন্দোলন প্রতিরোধ গড়ে তোলতে কখনো কুণ্ঠাবোধ করেননি তিনি।

 

আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন সময়ে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে একাধিকবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। ২০১০ সালে তিনি বিএনপির প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল আলমের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মেয়র নির্বাচনে পরাজয় বরণ করলেও জনগণ থেকে কখনো বিচ্যুত হননি। শরীরের নানা রোগ-ব্যাধিকে উপেক্ষা করে অসীম সাহস, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত আর জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার মাধ্যমে তিনি সকল শ্রেণি পেশার মানুষের আপনজনে পরিণত হয়েছেন।সুত্র আমাদের সময়।

Facebook Comments





Related News