class="post-template-default single single-post postid-4767 single-format-standard" >

ঝুলে গেলো ২৮৪ কলেজ জাতীয়করণ

এইচ এম সাইফুল্লাহ

ঝুলে গেছে আত্তীকৃত কলেজ শিক্ষকদের ননক্যাডার মর্যাদা দিয়ে বিধিমালা জারি। আদালতে দায়ের করা বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতাদের রিট আবেদনের শুনানি চলমান থাকায় বিধি জারির কার্যক্রম স্থগিত করেছে মন্ত্রণালয়। রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না মন্ত্রণালয়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ২৮৪ কলেজ জাতীয়করণের সরকারি নির্দেশ (জিও) জারিও ঝুলে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষকরা। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির পরেও রিট শুনানি করায় দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন বিসিএস সমিতির নেতারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, বিসিএস সাধারণ শিক্ষক সমিতি ও আত্তীকৃত শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষা করেই সমাধানের কৌশল বের করতে কাজ চলছিলো। আদালতে মামলা বিচারাধীন হওয়ায় সে পথটি বন্ধ হয়ে গেছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন সিদ্বান্ত নেওয়া যাবে না।

জানা গেছে, আত্তীকৃত কলেজ শিক্ষকদের ননক্যাডার ঘোষণা করে বিধিমালা জারি করতে গত বছরের জানুয়ারি মাসে আদালতে রিট আবেদন করেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির মহাসচিব সাহদুল কবির। ‘ নো বিসিএস,নো ক্যাডার’ দাবিতে সমিতির নেতারা সভা-সমাবেশ, কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সম্প্রতি বলেছিলেন, জাতীয়করণ হওয়া কলেজে কর্মরত শিক্ষকদের নন-ক্যাডার মর্যাদা দেওয়া হবে। মন্ত্রীর এই ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে গত মঙ্গলবার বিকাল ৫টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। ‘জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা, ২০১৭’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে একজন কর্মকর্তা রিট শুনানির বিষয়টি সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সঙ্গে সঙ্গে বৈঠকটি মুলতবি করেন সচিব। এর আগে সচিব সংগঠনের নেতাদের ডেকে শহীদ মিনারের মহাসমাবেশ স্থগিত করার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সচিবের অনুরোধ না রাখায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। ক্ষোভের জেরে সরকারি কলেজে নতুন ১৫ হাজর পদ সৃষ্টির সভা স্থগিত করেন।

বিসিএস সমিতির নেতাদের দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়ার পরেও রিটের শুনানি করায় খোদ সমিতির অনেক সদস্য ক্ষুব্ধ। তারা সমিতির নেতাদের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যটাাস দিয়েছেন। সমিতির একাধিক সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী আত্তীকৃত শিক্ষকদের ননক্যাডার ঘোষণা করে বিধিমালা জারি করতে সম্মতি দিয়েছেন। এ অবস্থায় রিটের শুনানী করা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থার অভাবের বহিপ্রকাশ ঘটেছে।

বিসিএস শিক্ষা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ও শিক্ষানীতির আলোকে বিধিমালা প্রণয়ন করে আত্তীকৃত কলেজ শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যায়। কিন্তু এটি না করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কালক্ষেপণ করছে। সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হলে শিক্ষা বিপর্যস্ত হবে। ক্লাস বর্জনসহ কঠোর আন্দোলনে যাবেন শিক্ষকরা। রিট শুনানির কারণে বিধিমালা জারি বিলম্বিত হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নতুন জাতীয়করণ হওয়া কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি জহিরুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী জাতীয়করণে বাঁধা সৃষ্টি করতে পুরাতন একটি রিট শুনানি সামনে নিয়ে এসেছে বিসিএস সমিতির নেতারা। আদালতে একটি রিটের নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লাগে। সমিতির নেতারা চাচ্ছেন রিট নিষ্পত্তি হতে সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। কলেজগুলো জাতীয়করণ আটকে দিতেই তারা এসব করছেন। রাষ্ট্রকে বিবাদী করায় আমরা পক্ষভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করেছি। আগামী ১৮ ডিসেম্বর পরবর্তি শুনানির তারিখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যাডার-ননক্যাডার বিধি জারির সঙ্গে জিও জারির সম্পর্ক নেই। আমাদের দাবি দ্রুত জিও জারি করা হোক।

জিও জারির অপেক্ষায় থাকা একাধিক কলেজ শিক্ষক বলেন, একই প্রতিষ্ঠানে একই কাজ করা শিক্ষকদের মধ্যে ক্যাডার-নন ক্যাডার থাকলে শ্রেণি বৈষম্য তৈরি হবে। শিক্ষকদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে। ১৯৮১, ১৯৯৮ ও ২০০০ সালের বিধিমালা অনুযায়ী আত্তীকৃত শিক্ষকরা ক্যাডার মর্যাদা পেয়ে আসছেন। শিক্ষকদের আরও সুযোগ সুবিধা দেওয়ার জন্য এ বিধিমালা সংশোধন করতে হবে। কোনোভাবেই নন-ক্যাডার ঘোষণা করা যাবে না। বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যরা বলছেন, নতুন জাতীয়করণকৃত কলেজের শিক্ষকদের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার করা যাবে না। সব মিলিয়ে ক্যাডার-নন ক্যাডার প্রশ্নে শিক্ষা প্রশাসন এখন উত্তপ্ত।

এতে পড়াশোনা ভীষণ ক্ষতি হচ্ছে। একের পর এক স্থগিত হচ্ছে ক্লাস-পরীক্ষা। দুই সংগঠনের চাপের কারণে নয় মাস আগে অর্থ মন্ত্রণালয় জাতীয়করণের জন্য ২৮৪টি কলেজ অর্থ ছাড়ের সম্মতি দিলেও জিও জারি করতে পারছে না মন্ত্রণালয়। এতে করে অনেক শিক্ষক সরকারি সুবিধা না পেয়েই অবসরে চলে যাচ্ছে;এসব কলেজে নতুন শিক্ষকও নিয়োগ দিতে পারছেন না। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষার্থীর।

Facebook Comments





Related News