class="post-template-default single single-post postid-3823 single-format-video" >

সিরাজগঞ্জে নিয়োগের দাবিতে শিক্ষক নিবন্ধিতদের আল্টিমেটাম ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধিত নিয়োগবঞ্চিত জাতীয় ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে আজ ২৫/১০/১৭ইং রোজ বুধবার সকাল ১১ টা হতে সিরাজগঞ্জ জেলার হ্যানরি ম্যাডামের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের  সম্মুখে চৌরাস্তার মোড় ১-১২ তম NTRCA শিক্ষক নিবন্ধিত নিয়োগবঞ্চিতদের নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচীসহ মানববন্ধন করা হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধিত নিয়োগবঞ্চিত জাতীয় ঐক্য পরিষদের সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি বিশ্নু কুমার দাস, জেলা সহ সভাপতি হাফিজুর রহমান, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মোছাঃ আশা ফারজানা,   সহ জেলা প্রতিনিধি মোঃ আমির হোসেন,  জেলা প্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম,  জেলা সহ সম্পাদক হোসেন আলী ও শংকর আলী,  জেলা সদস্য তনুশ্রী সাহা ও পলি খাতুন,  উপজেলা সদস্য রেশমা খাতুন(তারাশ) ও আব্দুল মোতালেব (কাজিপুর) সহ ১-১২ তম শিক্ষক নিবন্ধিত আরো অনেকেই।

নিয়োগবঞ্চিত বক্তাদের দাবি অবিলম্বে ১-১২তম শিক্ষক নিবন্ধিত নিয়োগবঞ্চিতদের জাতীয় মেধাতালিকা করে প্যানেল ভিত্তিক চাকরি নিশ্চিত করতে হবে।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে মানববন্ধন শেষে সিরাজগঞ্জ  জেলা প্রশাসক মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। উক্ত কর্মসূচীতে সিরাজগঞ্জ সহ পার্শ্ববর্তি সকল জেলার  ১-১২তম NTRCA শিক্ষক নিবন্ধিতরা অংশগ্রহণ করে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি  জনাব বিশ্নু কুমার দাশ  বলেন, এনটিআরসিএ আমাদের পূর্বের ১-১২তম শিক্ষক নিবন্ধিত নিয়োগবঞ্চিতদের নিয়োগ না দিয়ে আবারও ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি জালিয়াতিভাবে প্রকাশ করেছে। এনটিআরসিএ টাকার বিনিময়ে এ যাবৎ ৬০ হাজার জাল সনদধারীদের নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু, আমাদের বৈধ সনদ থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ দিচ্ছে না। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মোছাঃ আশা ফারজানা বলেন, বিভিন্ন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূণ্য পদ থাকা সত্ত্বেও নিবন্ধনবিহীন খন্ডকালীন শিক্ষক দ্বারা প্রতিষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ আমাদের নিয়োগ দিচ্ছে না। সহ জেলা প্রতিনিধি জনাব মোঃ আমির হোসেন প্রধানমন্ত্রী বরাবর বিনয়ের সহিত প্রশ্ন রাখেন- অর্থ, সময় ও মেধার ফলশ্রুতিতে অর্জিত এ নিবন্ধন সার্টিফিকেট যদি আমাদের কর্মের নিশ্চয়তা না দেয়, তবে কি শুধু নিবন্ধন সনদ দেওয়াই এনটিআরসিএ’র কাজ?

 

জেলা প্রচার সম্পাদক জনাব রফিকুল ইসলাম  বলেন, এনটিআরসিএ থেকে বলা হচ্ছে, সনদের মেয়াদ ৩ বছর। আমরা অনার্স-মাস্টার্স পাস করে কি ৩ বছর পরে  হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের পড়াতে পারবো না?

যদি না পারি তাহলে, তারা কি আমাদের ভূল করে সনদ দিয়েছিলো?

 

এক পর্যায়ে জেলা সদস্য তনুশ্রী সাহার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন-

পূর্বে কমিটির মাধ্যমে ৪০ মার্ক পেয়ে হাজার হাজার শিক্ষক নিবন্ধিতগণ  চাকরিরত অবস্থায় রয়েছে, তাহলে আমরা কেন নিয়োগ পাবো না???

এ সময় উপস্থিত প্রায় শতাধিক  ১-১২তম নিয়োগবঞ্চিতরা সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের  ৭(সাত)  দফা দাবি উপস্থাপন করে তা মেনে নেওয়ার জন্য সরকার ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর আকুল আহ্বান জানান।

দাবিগুলো হলো-

(১) ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা বাতিল করে আগে ১-১২তম নিবন্ধিতদের নিয়োগ দিতে হবে।

(২) সার্টিফিকেটধারীদের এমপিওভুক্ত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় মেধাতালিকা করে প্যানেলভিত্তিক নিয়োগ দিতে হবে। (৩) উপজেলা কোটা বাদ দিতে হবে। (৪) ৬০ হাজার জাল সনদধারীদের চাকরিচ্যুত করতে হবে।

(৫) খন্ডকালীন সৃষ্ট পদ বিলুপ্ত করে ১-১২তম বৈধ শিক্ষকদের নিয়োগ দিতে হবে।

(৬) টাকার বিনিময়ে এনটিআরসিএ’র নিয়োগ দেয়া বন্ধ করতে হবে।

 

(৭) সার্টিফিকেটের মেয়াদ ৩ বছর থেকে আজীবন বহাল রাখতে হবে।

 

উক্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল আহবানে ছিলেন বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধিত নিয়োগবঞ্চিত জাতীয় ঐক্য পরিষদের সভাপতি জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। এ বিষয়ে তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অবিলম্বে ১-১২ তমদের যৌক্তিক  ন্যায্য দাবি নিয়োগ প্রদান করা না হলে আবারো মাঠে গত দিনের কর্মসূচির মতো কঠোর আন্দোলন করার জন্য আমরা সদা প্রস্তুত। সেক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়,  এনটিআরসিএ অফিস,  জেলা শিক্ষা অফিস ঘেরাও করা হবে।

প্রয়োজনে আমরা ৬৪ জেলা থেকে আবারো ঢাকায় এসে  অনশন কর্মসূচী করতে বাধ্য থাকবো।

Facebook Comments





Related News