class="post-template-default single single-post postid-2456 single-format-standard" >

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ,বিএনপি”র একাধিক প্রার্থীরা মাঠে সরব ॥

জাতীয় সংসদীয় আসন ১৫৪ ময়মনসিংহ-৯(নান্দাইল) ঐতিহাসিক ও আলোচিত সংসদীয় আসন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমীনকে ভাষাসৈনিক মরহুম খালেক নেওয়াজ যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে তাকে পরাজিত করেন।১৯৭০ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের সাধারণ পরিষদ নির্বাচনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সবগুলো আসনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলেও নান্দাইল আসনটিতে নুরুল আমিন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মরহুম রফিক উদ্দিন ভূইয়াকে পরাজিত করে তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন। ১৯৫৪ ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নান্দাইল আসনটি পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যাপক আলোচিত হয় এবং জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক মিডিয়াতে খবরের শিরোণাম হয় বিধায় আসনটিকে ঐতিহাসিক ও আলোচিত আসন বলা হয়ে থাকে। দশম জাতীয় সংসদের মেয়াদ যতই গড়িয়ে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। স্বাধীনতা উত্তর ১০টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ৩টি নির্বাচনেই বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় প্রার্থীগণ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তন্মধ্যে ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অত্র আসন থেকে মরহুম রফিক উদ্দিন ভূইয়া নৌকা প্রতীক নিযে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় আওয়ামী লীগের এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে খুররম খান চৌধুরী জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ভোটার বিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল আব্দুস সালামের মনোনয়ন পত্র ঋণখেলাপীর দায়ে বাতিল হয়ে গেলে বর্তমান সাংসদ আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনের স্বাধীনতা উত্তর ১০ টি নির্বাচনের খতিয়ান হলো আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক ৫ বার, বিএনপি’র ধানের শীষ ৪ বার ও জাপা’র লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ১ বার বিজয়ী হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দেড় বছর বাকী থাকলেও বিএনপির প্রার্থীরা মাঠে বেশি সরব না থাকলেও আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থীরা মাঠে দাবরিয়ে বেড়াচ্ছেন। এখানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই গ্রুপে বিভক্ত রয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন বর্তমান সাংসদ আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন, অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাবেক দুই বারের এমপি মেজর জেনারেল আব্দুস সালাম। বছর দুইয়েক আগে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সালাম গ্রুপের আবুল মনসুর ভূইয়া নামে আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হন। এনিয়ে থানায় দু পক্ষের একাধিক পাল্টাপাল্টি মামলা রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে এখন পর্যন্ত ৭ জন এবং বিএনপি থেকে ৪ জনের নাম মাঠে প্রচার রয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান এমপি আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন, সাবেক এমপি মেজর জেনারেল আব্দুস সালাম, বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মালেক চৌধুরী স্বপন, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধান পর্যটনবীদ পর্যটন লীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি ড. আতিকুর রহমান খান, ব্যবসায়ী এডিএম সালাউদ্দিন,এডঃ আব্দুল হাই, সহকারী এটর্নী জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ড, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সাবেক নেতা শাহাজাহান কবির সুমন। অপর দিকে বিএনপি’র প্রাথীদের মধ্যে নির্বাচনী মাঠে প্রচারণায় রয়েছেন সাবেক একাধিক বারের এমপি ও ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক খুররম খান চৌধুরী, সৌদি আরব বিএনপি’র পূর্বাঞ্চল কমিটির সভাপতি শিক্ষাবীদ ও শিল্পপতি একেএম রফিকুল ইসলাম, তার অনুজ নান্দাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র পৌর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দুই ডজন রাজনৈতিক মামলার আসামী ও একাধিক বার কারাবরণকারী এএফএম আজিজুল ইসলাম পিকুল। অপরদিকে লন্ডন প্রবাসী সাবেক এমপি আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরীর পুত্র ইয়াসের খান চৌধুরি বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে শোনা যাচ্ছে। জাপা(এরশাদ) থেকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুল হাকিম ভূইয়ার পুত্র হাসনাত মাহমুদ তালহা মাঠে রয়েছেন। জাসদ থেকে জেলা জাসদের সভাপতি এডভোকেট গিয়াস উদ্দিনকে ১৪ দলের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। জামাতের প্রার্থী নিয়ে মাঠে কোন আলোচনা নেই।

Facebook Comments





Related News