class="post-template-default single single-post postid-1763 single-format-standard" >

        বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রতিরোধে  বৃক্ষ               – সাইদুর রহমান

  1. গাছ ও পরিবেশর মধ্যে একটা নিবীড় সম্পর্ক অন্তর্নিহিত । আর এই পরিবেশে বাস পৃথিবীর প্রাণীকুল। এই পরিবেশ যদি আমাদের অবহেলার কারনে বাসের অযোগ্য হয়ে উঠে তাহলে  রক্তপাতহীন অর্থনেতিক যুদ্ধ করে  কি লাভ হবে ? প্রতিটি প্রাণীকুলকে বেঁচে থাকার জন্য, বাসযোগ্য পরিবেশের দাবী কোন সৌখিন দাবী নয়।
    আমরা বলি গাছ আমাদের পরম বন্ধু কিন্তু কতটুকু যত্নশীল বন্ধুর প্রতি ?  আমরা কোন কারন ছাড়াই অথবা সামান্য কারন দেখিয়ে বনকে বন উজার করে দিয়েও মনে অতৃপ্তির  বাসনা থেকে যায়। একটা দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষ গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। ”  গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান ” এই স্লোগানটি এখন আর পত্র-পত্রিকা অথবা মিডিয়া গুলিতে আগের মতো জোড়ালো ভাবে প্রচারিত হচ্ছে না। গাছপালা শুধু কার্বন ড্রাই অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে উপকারের পরিসমাপ্তি ঘটায় তা না । প্রাণীকুলের পুষ্টির জোগানদাতা । ফল দেয়,  ফুল দেয়, ছায়া দেয়, সুশীতল বাতাস দেয়, মরণ ব্যাধি ঔষধের জোগান দেয়,  পাহাড় ধস থেকে রক্ষা করে ।  আরও বিভিন্ন ভাবে উপকারে আসে। পাখিকুলের বেঁচে থাকার নির্ভর যোগ্য মাধ্যম হচ্ছে গাছপালা।

    বিশ্বায়নের ফলে প্রযুক্তির অযৌক্তিক ব্যবহারে পরিবেশ আজ সংকটাপন্ন।  বিশ্বের উন্নত দেশ গুলির শিল্পায়নের যাঁতা কলে পিষ্ট হয়ে  দুষিত হচ্ছে পরিবেশ । শিল্পে অধিক পরিমাণে জীবাশ্ম জালানি ব্যবহারের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশকে বললে,  এদেশের আবহাওয়া যাত্রাদলের ভিলেনের মতো হাসবে ।
    শিল্পোন্নত দেশ গুলির বেসামাল শিল্পনীতির জন্য আমাদের মতো স্বল্প উন্নত দেশে আজ বাসের অযোগ্যের ধারপ্রান্তে । শিল্পের বর্জ  পরিশোধন ছাড়াই ছেড়ে দিচ্ছে পরিবেশে।  আর বায়ুমণ্ডলে  সৃষ্টি হচ্ছে গ্রীনহাউজ ইফেক্ট । যারফলে ; দেশে অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, পাহাড় ধস,  ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব দিনে দিনে বৃদ্ধিই পাচ্ছে। তারসাথে আমাদের প্রিয় মানচিত্রের অবস্হানও পরিবর্তন  হতে শুরু করেছে। গ্রীনহাউজ ইফেক্টের জন্য একমাত্র কার্বন নিঃসরণকে দায়ী করলে ভুল হবে। গ্রীনহাউজ ইফেক্টের জন্য কার্বন ৫০ ভাগ দায়ী ।বাকীটার জন্য অন্যন্য উপাদান দায়ী।  বিশ্ব জলবায়ু সন্মেলনে বিজ্ঞানীরা বলেছেন,  প্রতিবছরেই কার্বন নিঃসরণের রেকর্ড ভাঙ্গতেছে। পৃথিবীতে শীর্ষে থাকা কার্বন নি:সরণকারী দেশ গুলি হচ্ছে চীন,  যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত । বিশ্বে সবচেয়ে বেশী কার্বন নিঃসরণকারী দেশ চীন ( ২৮%) ।   বিজ্ঞানীরা বলেন,   পৃথিবীটাকে  একটা টাইম বোমার সাথে তুলনা করা যেতে পারে । যে কোন সময় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
    জার্মান ওযাচের প্রতিবেদন বলা হয়েছে ,
    গত ১৯ বছরে সবচেয়ে বেশী প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘান জেনেছে ফিলিপাইনে যার সংখ্যা ৩২৮ টি  তারপর বাংলাদেশ যার সংখ্যা ২২৮ টি।  জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে   তার মূল কারন  ভূগোলিক অবস্হান । গত ১৯ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে বাংলাদেশে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে  ৩১২ কোটি ৮০ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার  ( জার্মান ওয়াচ) । যা জিডিপির ১.৫ শতাংশ ।বৈশ্বিক উষ্ণতা  বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের উপকূলবর্তী এলাকা গুলো  সমুদ্রে তলিয়ে যাবে ।বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের তেমন ভূমিকা নেই।তারপরও বাংলাদেশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর কথা বিশ্ববাসীর কাছে স্বীকার করেছে । চট্রগ্রাম, কক্সবাজারে,  বর্তমানে  যে সব এলাকা শীত বর্ষা সবসময় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়।সেই সব এলাকা গত ২০ বছর পূর্বে  জোয়ারের পানি আসা তো দূরের কথা,  কখন জোয়ার-ভাটা আসতো তাও বুঝতো না মানুষ। এই জোয়ারের পানিতে লবন থাকায় পরিবেশেকে চরম বিপর্যয়ে ফেলে দিচ্ছে ।

    ইতিমধ্যে প্যারিসে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে অর্থ দিতে অহীনা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র । সুতারাং বিদেশিদের আশ্বাসের মিথ্যা বাণীর অপেক্ষায় বসে থাকলে সময় হারাবো পাবনা কিছুই । ধনী দেশ গুলির সভ্য বাণীর মুখে একটা অসভ্য লাথি মেরে বুঝিয়ে দিতে চাই। আমরা সোনার বাংলার মানুষ। আমরা ষোল কোটি মানুষ মিলে সুজলা-সুফলা দেশের রূপ নষ্ট হতে দিবনা ।জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আমাদের সহজ মাধ্যম হচ্ছে বৃক্ষরোপণ । কারন বৃক্ষরোপণ আন্দোলনে সহজ প্রাপ্ততা আছে যেমন,  তেমনি আছে দেশের প্রতিটি মানুষকে এ আন্দোলনে  সম্পৃক্ত করার অসাধারণ সুযোগ। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এ দেশকে অবরিত সবুজে পরিণত করবো । পথেঘাটে ফল হবে, ফুল ফুটবে। পাখিদের কলরবে মুখরিত হবে সারা বাংলা। বিদেশী পর্যটক আসবে আমাদের সোনার বাংলার অবরিত সবুজের বুক দেখতে।
    এ বছর বৃক্ষরোপণ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘বৃক্ষরোপণ করে যে, সম্পদশালী হয় সে’। অনেকই বলে গাছ লাগালে কৃষিজমি কমে যাবে । আপনার বাড়ীর পাশে পরিত্যক্ত জায়গা, রাস্তাঘাট, সরকারী পতিত জায়গা অথবা নদীর দু পাশে,  রেল লাইনের দু পাশে বৃক্ষরোপণ করতে পারেন । পরিকল্পিত একটি বাগানেই হতে পারে আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আয়ের উৎস। আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যদি বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে চান, তাহলে গাছ লাগানো আপনার নৈতিক দায়িত্ব ।

    ৫৬ হাজার বর্গ মাইলের দেশটাকে নিয়ে আগে ভাবতে চাই। একটা দেশের আয়তনের কমপক্ষে ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা বাঞ্চনীয় । কিন্তু আমাদের বনভূমি আছে ১৭%। এই ১৭% এর বাস্তব চিত্র দেখলে সবাই বিস্মিত হবেন। এর মধ্যে
    চট্রগ্রামে বনভূমি আছে ৪৩% ,  খুলনায় আছে ৩৮% ঢাকায়  আছে ৭% সিলেটে ৬% বরিশালে ৩% রাজশাহীতে ২% । চট্রগ্রাম ও খুলনা ছাড়া সারা দেশে বনভূমির পরিমাণ  খুবই নগণ্য  ।  এটা পরিস্কার অঞ্চল ভিত্তিক বনায়ন অতিজরুরী  । যে অঞ্চলে বনভূমি কম সে অঞ্চলে বৃক্ষরোপণ অভিযান জোরদার করতে হবে।
    পরিবেশের ভারসাম্য  এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা থেকে এ দেশের জলবায়ুকে রক্ষায় অনেক গুলি করণীয় কাজের মধ্যে বৃক্ষরোপণ হলো প্রধান ।

    লেখক ও কলামিস্ট ।

    ০১৬৭৪৬৯১৯৩৪

 

Facebook Comments