class="post-template-default single single-post postid-1055 single-format-standard" >

সদকায়ে ফিতর কী? কেন ওয়াজিব করা হলো?

আবদুল কাইয়ুম শেখ

এটি একটি প্রাকৃতিক নিয়ম যে, মানুষের জীবন ও জীবিকা নির্বাহের স্তর বিভিন্ন। কোনো সমাজেই সকল মানুষ সমানভাবে সুখী হতে পারে না। কিছু লোক যদি সচ্ছল হয়, তা হলে বহু লোক এমন থাকে যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। বহু লোক যদি সুখী থাকে, তা হলে সমাজের কিছু লোক এমনও থাকে যারা শুকনো রুটিও সহজে লাভ করতে পারে না। এই যখন অবস্থা তখন তাদের দুঃখে দুঃখী ও কাতর না হওয়া বড়ই পাষাণপ্রাণ হবার পরিচায়ক। এ জন্য দ্বিতীয় হিজরীর রমযানুল মোবারকে রোযা ফরয করার পরই সদকায়ে ফিতর ফরয করে দেওয়া হয়।

মুসনাদে আহমদ ও অন্যান্য হাদীসগ্রন্থে সদকায়ে ফিতর ফরয হবার বর্ণনা এভাবে করা হয়েছে যে,

خَطَبَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّاسَ قَبْلَ الْفِطْرِ بِيَوْمَيْنِ فَقَالَ: ” أَدُّوا صَاعًا مِنْ بُرٍّ أَوْ قَمْحٍ بَيْنَ اثْنَيْنِ، أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ، عَلَى كُلِّ حُرٍّ وَعَبْدٍ، وَصَغِيرٍ وَكَبِيرٍ

অর্থাৎ, ‘মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দুই দিন পূর্বে মানুষদের সামনে ভাষণ প্রদান করেছেন। তখন তিনি বলেছেন, তোমরা দুইজন ব্যক্তির মাঝে এক সা’ গম কিংবা এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ যব আদায় করে দাও। এই বিধানটি প্রত্যেকটি গোলাম, স্বাধীন, ছোট ও বড় ব্যক্তির ওপর ফরয।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৩৬৬৩)

যাকাতে ফিতর পরিভাষাটি মূলত দুটি শব্দের সমষ্টি। এর প্রথম শব্দ যাকাতের অর্থ হলো পবিত্রতা এবং দ্বিতীয় শব্দ ফিতরের অর্থ হলো রোযা রাখার পূর্বের সেই অবস্থা যার মধ্যে পানাহার করা হালাল ছিল। দুই শব্দের সমন্বয়ে যাকাতে ফিতরের অর্থ দাঁড়ালো বিশেষ সময়ে নির্দিষ্ট বস্তুসমূহের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট লোকদের মধ্যে ইবাদতের নিয়তে যে দান-অনুদান প্রদান করা হয় তাকে সদকায়ে ফিতর বলে অভিহিত করা হয়।

অন্য ভাষায় বলা যায় ফিতর এমন এক সদকা যা রমযানুল মোবারকের রোযা শেষ হবার পর ওয়াজিব হয়ে যায়। আর যাকাত শব্দটিকে ফিতরের দিকে এ জন্য সম্বন্ধ করা হয়েছে যে, রোযার পরবর্তী রোযাহীন অবস্থা বা ফিতরের কারণেই এই সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব করা হয়েছে। হাদীসে নববীর আলোকে সদকায়ে ফিতরের দুটি তাৎপর্য স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে।

সেগুলো হলো : (১) অপূর্ণতা দূরীকরণ : এই তাৎপর্য ও হেকমতটির সম্পর্ক সরাসরি রমযানুল মোবারকের সঙ্গে। প্রতিটি ব্যক্তিই তার কথায় ও কাজে ভুল ও ভ্রান্তির শিকার হয়ে থাকে। রমযানুল মোবারকেও পূর্ণ চেষ্টা করা সত্ত্বেও কোনো না কোনো ত্রুটি ও বিচ্যুতি হয়ে যায়। সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব করার একটি বড় উদ্দেশ্য হলো সেই ত্রুটি, বিচ্যুতি ও অপূর্ণতা দূরীভূত করা। যেমন : সাইয়্যিদুনা হযরত ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন :

فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم: ্রزكاة الفطر طهرة للصائم من اللغو والرفث وطعمة للمساكين

অর্থাৎ, ‘মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত ফরয করেছেন, রোযাদারকে অনর্থক ও বেহুদা কথা-বার্তা থেকে বিরত রাখা এবং দরিদ্র ও অসহায় লোকদের খাবার ব্যবস্থা করার জন্য।’ (সুনানে দারা কুতনী, হাদীস : ২০৬৭)

(২) ঈদের আনন্দে দরিদ্রদের অংশীদার করা : আলোচ্য হাদীসের মাধ্যমে এই বিষয়টিও প্রতীয়মান হয় যে, সদকায়ে ফিতরের একটি উদ্দেশ্য এটাও ছিল; যাতে অভাবী ও অসচ্ছল লোকেরা ঈদের আনন্দে অংশগ্রহণ করতে পারে। হাদীসে নববীতে নামায আদায়ের পূর্বেই সদকায়ে ফিতর আদায় করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

مَنْ أَدَّاهَا قَبْلَ الصَّلَاةِ، فَهِيَ زَكَاةٌ مَقْبُولَةٌ، وَمَنْ أَدَّاهَا بَعْدَ الصَّلَاةِ، فَهِيَ صَدَقَةٌ مِنَ الصَّدَقَاتِ

অর্থাৎ, ‘যে ব্যক্তি ঈদের নামাযের পূর্বে সদকা আদায় করল তাই গ্রহণযোগ্য সদকায়ে ফিতর। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি নামাযের পর তা আদায় করল তা সাধারণ দান-অনুদানের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হলো।’ (সুনানে আবু দাঊদ, হাদীস : ১৬০৯)

Facebook Comments





Related News